এশিয়ান গেমসে লক্ষ্যভেদ বাঙালির। মহিলাদের রিকার্ভ আর্চারির টিম ইভেন্টে সোনা জিতে ইতিহাস অঙ্কিতা ভকতের। মহিলাদের রিকার্ভ আর্চারি টিমের হয়ে সোনা জিতলেন তিনি । ২০২৪-এ এবিপি আনন্দের সেরা বাঙালি সম্মান পেয়েছিলেন অঙ্কিতা। ফাইনালে পাওয়ারহাউস দক্ষিণ কোরিয়াকে ৫-৩-এ হারাল অঙ্কিতা ভকত, কৃতী ও কুমকুম অনিলের টিম ইন্ডিয়া।
রিকার্ভ মহিলা দল এর আগে এশিয়ান গেমসে সোনা জিততে পারেনি। হাংঝৌ এশিয়ান গেমসে ব্রোঞ্জ ছিল এই ইভেন্টে ভারতের সেরা ফল। এবার সেই অপেক্ষার অবসান ঘটাল অঙ্কিতা, কীর্তি ও কুমকুমের ত্রয়ী। ফাইনালে তাঁদের সামনে ছিল দক্ষিণ কোরিয়ার বিশ্বমানের দল। কিন্তু শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ছিল ভারতীয় দল।
ফাইনালের প্রথম দুই সেটে দুই দলের মধ্যে একটুও ফারাক করা যায়নি। প্রথম সেটে দু’দলই ৫৪ পয়েন্ট করে। দ্বিতীয় সেটেও ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়ার স্কোর ছিল ৫৬-৫৬। ফলে দুই সেটের পর ম্যাচের স্কোর দাঁড়ায় ২-২। এই পরিস্থিতিতে তৃতীয় সেটই হয়ে ওঠে ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট। চাপের মুহূর্তে নিজেদের স্নায়ু ধরে রেখে ৫৫-৫১ ব্যবধানে সেট জিতে নেয় ভারত। ফলে ৪-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায় অঙ্কিতা, কীর্তি ও কুমকুমের দল।
এই সাফল্যের পিছনে তিন তিরন্দাজের ভূমিকা আলাদা করে নজর কেড়েছে। অভিজ্ঞ অঙ্কিতা ভকত গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দলকে সামলেছেন। কীর্তি শর্মার নিখুঁত শট বারবার ভারতকে লড়াইয়ে রেখেছে। আর মাত্র ১৭ বছরের কুমকুম মোহাদ দেখিয়েছেন চাপের মধ্যে কীভাবে ঠান্ডা মাথায় পারফর্ম করতে হয়।
বিশেষ করে সেমিফাইনালে চিনের বিরুদ্ধে শেষ মুহূর্তে কুমকুমের ১০ পয়েন্টের শট ভারতকে বড় সুবিধা দিয়েছিল। ফাইনালেও তাঁর ধারাবাহিকতা ভারতীয় দলের সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।
অঙ্কিতা এর আগেও এশিয়ান গেমসে পদক জিতেছেন। ২০২৩ সালের হাংঝৌ গেমসে মহিলা রিকার্ভ দল ব্রোঞ্জ পেয়েছিল। এবার সেই দলীয় সাফল্যকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেলেন অঙ্কিতা-কীর্তি-কুমকুম।
এই সোনা শুধু একটি পদক নয়, ভারতীয় মহিলা রিকার্ভ তিরন্দাজির জন্য একটি বড় মাইলস্টোন। এশিয়ান গেমসে প্রথমবার এই ইভেন্টের ফাইনালে উঠে সরাসরি সোনা জিতে ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নিল ভারতের এই তিন তিরন্দাজ।




















