• হোম
  • রাজনীতি
  • চুক্তি বাস্তবায়ন না হওয়ার অভিযোগের রাজনীতির চালে জনদুর্ভোগ আর কতদিন?
Image

চুক্তি বাস্তবায়ন না হওয়ার অভিযোগের রাজনীতির চালে জনদুর্ভোগ আর কতদিন?

চুক্তি বাস্তবায়ন না হওয়ার অভিযোগ এনে জাতীয় সড়ক ও রেলপথ অবরোধ আত্মসমর্পণকারী বৈরীদের যৌথ কমিটির। জাতীয় সড়ক, রেলপথ অবরোধে জন দুর্ভোগ চরমে। বিশাল পুলিস বাহিনী দাঁড়িয়ে থেকেও কুম্ভ নিদ্রায়। তিপ্রাসাদের জন্য মায়াকান্না করা প্রদ্যোত কিশোরের নীরবতা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। সরকারের সঙ্গে চুক্তি বাস্তবায়ন না হওয়ার ফল কিছুদিন পর পর আমজনতা কেন ভুগবে এনিয়ে সচেতন মহলে প্রশ্ন উঠছে। বিভিন্ন আত্মসমর্পণকারী বৈরীদের ত্রিপাক্ষিক চুক্তি হয় কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের সঙ্গে। অভিযোগ সমস্ত চুক্তি বাস্তবায়ন সঠিক সময়ে করছে না সরকার। ফলে বঞ্চিত হচ্ছে আত্মসমর্পণকারী বৈরীদের বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যরা। অভিযোগ কেন্দ্র কিংবা রাজ্য সরকার চুক্তি বাস্তবায়নে অর্থ দিচ্ছে না। বার কয়েক সরকারের গোছরে নেওয়া হলেও কোন কর্ণপাত করছে না সরকার। তাই দাবি আদায়ে আত্মসমর্পণ কারীদের বিভিন্ন সংগঠন কখনও আন্দোলনের ঘোষণা দিলে কিংবা সড়ক অবরোধে বসলে সরকারের তরফে আশ্বাস দিয়ে আন্দোলন প্রত্যাহার করা হয়, কিন্তু সঠিক সময়ে দাবি পূরণে কার্যকরী কোন পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। এই অবস্থায় প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ এনে ফের শুক্রবার থেকে ৭২ ঘণ্টা ত্রিপুরা বনধের ডাক দিয়ে আত্মসমর্পণ কারীদের বৈরীদের বিভিন্ন সংগঠনের যৌথ কমিটি আন্দোলন শুরু করে। এদিন সকাল ৬ টা থেকে বড়মুড়া হাতাইকতরে আসাম আগরতলা জাতীয় সড়ক, ভৃগুদাস পাড়ায় রেলপথ ও খোয়াই চৌমুহনীতে বিকল্প জাতীয় সড়ক অবরোধে বসে পড়ে তারা। রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধে শামিল হয় তারা।

সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের খেলাপ এনে। তাদের অভিযোগ নীরব মোদীর ১৬০০ কোটি টাকা ঋণ মকুব করতে পারে সরকার ,কিন্তু ৩৭১ জন আত্মসমর্পণ কারী বৈরীদের জন্য ২০০ কোটি বরাদ্দ করা যায় না।

পৃথক পৃথক জায়গায় জাতীয় সড়ক ও রেলপথ অবরোধের ফলে জন দুর্ভোগ চরমে উঠে। দুরপাল্লার যানবাহন এবং যাত্রী সাধারন ভোগান্তির শিকার। অথচ তিন জায়গায় বিশাল পুলিস বাহিনী সকাল থেকে ঠাই দাঁড়িয়ে নিধিরাম সর্দারের ভূমিকায়। এক প্রকার যেন রাষ্ট্রপতি কালারস প্রাপ্ত পুলিস কাঠের পুতুলের মতো দাঁড়িয়ে।

আত্মসমর্পণকারী বৈরীদের কিছুদিন পর পর আন্দোলন নিয়ে সচেতন মহলে একাধিক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। আত্মসমর্পণকারী বৈরীদের আন্দোলনের নামে লাইফ লাইন বন্ধ করে জনদুর্ভোগের রাজনীতি আর কতদিন চলবে? সরকারের সঙ্গে চুক্তি বাস্তবায়ন না হওয়ায় এর ফল কেন রাজ্যের সাধারণ মানুষকে ভুগতে হবে ? কেন কিছু দিন পর পর এ ধরণের আন্দোলন? যদি দাবি আদায় করতেই হয় তাহলে মানুষকে দুর্ভোগে না ফেলে অন্য ভাবেও তো দাবি আদায়ের আন্দোলন করা যেতে পারে। এই অবস্থায় কেন সাধারণ মানুষকে সমস্যায় ফেলা? এদিকে  বিভিন্ন সময়ে তিপ্রাসাদের জন্য মায়া কান্না করা প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মণের ভূমিকা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। প্রশ্ন উঠছে কেন আত্মসমর্পণকারী বৈরীদের দাবি নিয়ে তিনি কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে এর সুরাহা করছেন না? তথ্যবিজ্ঞ মহলের প্রশ্ন তবে কি এসব আন্দোলন নিছকই দাবি আদায়ের নামে অন্য রাজনীতির খেলা? সামনেই ভিলেজ কমিটির নির্বাচন, এর আগে রাজ্যের শাসন ক্ষমতায় থাকা বড় শরিকের উপর চাপ বাড়াতেই কি অন্য কৌশল?

Related Posts

Scroll to Top