• হোম
  • রাজনীতি
  • স্মরণে অনিল সরকার ! তিনি নেই, তবু আছেন সবার মননে-চিন্তনে……
Image

স্মরণে অনিল সরকার ! তিনি নেই, তবু আছেন সবার মননে-চিন্তনে……

অনিল সরকার। জন্ম ১৯৩৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর। অবিভক্ত বাংলার কুমিল্লা জেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তাঁর আদি বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়।  মধ্যবিত্ত কৃষক পরিবারে জন্ম। । ম্যাট্রিকুলেশন পাস করার পর, পঞ্চাশের দশকে তাঁর পরিবার ত্রিপুরায় চলে আসেন। পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষায় স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। ১৯৫৬ সালে তিনি ভারতের কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগদান। পরে ১৯৬৪ সালে, যখন ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) প্রতিষ্ঠিত হয়, তিনি সিপিআই(এম)য়ে যোগ দেন।

১৯৭২ সালে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী)র টিকিটে তেলিয়ামুরা বিধানসভা কেন্দ্র থেকে ত্রিপুরা বিধানসভায় প্রথম নির্বাচিত হন অনিল সরকার। ১৯৭৭ সালের পরবর্তী বিধানসভা নির্বাচনে  তিনি জিতেছিলেন প্রতাপগড় বিধানসভা কেন্দ্র থেকে। তারপর থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত তিনি টানা ৯ বার বিধানসভায় নির্বাচিত হয়েছিলেন। দীর্ঘদিন তিনি ছিলেন রাজ্যের শিক্ষা মন্ত্রী। ত্রিপুরায় শিক্ষার উন্নয়নের পাশাপাশি তিনি গুরুত্ব দিয়েছিলেন পিছিয়ে পড়া মানুষজনের মধ্যে শিক্ষাকে পৌঁছে দেওয়ার কাজে। ত্রিপুরায় উপজাতি মানুষজনের মধ্যে শিক্ষার প্রসার ছিল তাঁর অন্যতম লক্ষ্য। ত্রিপুরায় দলিত আন্দোলনের অন্যতম মুখ ছিলেন অনিল সরকার। মার্কসবাদে অবিচল থেকে তিনি উত্তর পূর্ব ভারতে দলিতদের স্বার্থে চিরকাল কথা বলে এসেছেন। এখানেই তিনি যেন কার্ল মার্কস এবং বি আর আম্বেদকরকে একসূত্রে গেঁথে ফেলেছিলেন। শিক্ষা দপ্তরের পাশাপাশি তিনি সামলেছিলেন অনগ্রসর শ্রেণি উন্নয়ন দপ্তর। তখন তিনি চালু করেছিলেন দলিত, উপজাতি এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায় থেকে মাধ্যমিকে, উচ্চ মাধ্যমিকে প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ ছাত্রছাত্রীদের জন্য আম্বেদকর পুরস্কার। প্রত্যেক দলিত ও উপজাতি পরিবারের মধ্যে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার কাজে যে সাফল্য পেয়েছিল বামফ্রন্ট সরকার, তার পিছনে অনিল সরকারের অবদান অনস্বীকার্য। কার্যত দশরথ দেবের প্রয়াণের পর অনিল সরকার দশরথ দেবের শূন্য স্থান যেন পূরণ করেছিলেন। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি সিপিআইএমের পাশাপাশি দলিত ও উপজাতি মানুষজনের জন্য কাজ করে গিয়েছেন। অনেকেই তাঁকে দলিত সাহিত্যের অন্যতম পুরোধা বলে মনে করেন। উত্তর প্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী দলিত কন্যা মায়াবতীকে নিয়ে তিনটি কবিতাও লিখেছিলেন তিনি। মঙ্গলবার  ত্রিপুরা তপশিলি জাতি সমন্বয় সমিতি রাজ্য দপ্তর আম্বেদকর ভবনে প্রয়াত প্রাক্তন মন্ত্রী অনিল সরকারের ৮৮ তম জন্মদিন যথাযোগ্য মর্যাদায়  পালন করা হয়। উপস্থিত ছিলেন তপশিলি জাতি সমন্বয় সমিতির সাধারন সম্পাদক সুধন দাস, সংগঠনের নেতৃত্ব বিপদ বন্ধু ঋষি দাস, পার্থ বাঁচপোর, বিধায়ক সুদীপ সরকার সহ আরো অনেকেই।

 অনিল সরকার কেবলমাত্র রাজনীতিক বা সমাজসেবী ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন প্রশংসিত কবি, লেখক এবং বুদ্ধিজীবী। তিনি ২৪টি বই লিখেছেন এবং অসংখ্য সাহিত্য পুরস্কার পেয়েছেন। ১৯৭১ সালে, বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে আসতে বাধ্য হওয়া কয়েক হাজার শরণার্থীকে ত্রিপুরায় ত্রাণ ও আশ্রয় প্রদানে সহায়তা করেছিলেন অনিল সরকার। এ হেন একজন মানুষ, মন্ত্রী পদে থেকেও যিনি ছিলেন মাটির কাছাকাছি থাকা মানুষ, যাঁর সহজ সরল জীবনযাপন নজর কেড়েছিল আপামর ত্রিপুরাবাসীর, সেই অনিল সরকার সকলকে  ছেড়ে চলে যান ২০১৫ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি। কিন্তু রেখে যান এমন এক উদাহরণ যা জানান দেয়, কীরকম হওয়া উচিত রাজনেতাদের!, কীভাবে তুলে আনতে হয় সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীদের!, কীভাবে ছড়ায় ছড়ায় পৌঁছে যাওয়া যায় জনমনে!

Related Posts

Scroll to Top