কলঙ্কিত কমলা সাগর বিধানসভার অন্তর্গত মিয়াপাড়া স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত হরিলাল দেব স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্ট। আমন্ত্রিত করে নিয়ে গিয়ে মতিনগর প্লে সেন্টারের প্লেয়ার এবং দর্শকদের ধারালো অস্ত্র, লাঠি এবং বাঁশ দিয়ে আঘাত করে ১১ জনকে আহত করা হয়। যার মধ্যে ৫জন গুরুতর অবস্থায় হাঁপানিয়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বর্তমানে। পরবর্তী সময়ে মতিনগরের পক্ষ থেকে হরিলাল দেব স্মৃতি টুর্নামেন্টের কমিটি সহ মিয়াপাড়া এলাকার ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয় মধুপুর থানায়। যাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়,এরা হলেন কমিটির কর্ণধার দুলাল মিয়া, ২মামুন মিয়া, শাহজালাল, কামরুল, অলিমিয়া, ওয়ারিশ মিয়া, শিশু মিয়া ,আলী মিয়া, জাহাঙ্গীর মিয়া, ইয়াসিন মিয়া এবং তপন মিয়া। আর এই ঘটনা কে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। গত ৬ আগস্ট থেকে মিয়াপাড়া স্কুল মাঠে হরিলাল দেব স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের আসর অনুষ্ঠিত হয়। উদ্যোক্তা মিয়াপাড়া প্লে সেন্টার। যথারীতি বিভিন্ন এলাকা থেকে দল অংশগ্রহণ করে এবং খেলাও শুরু হয়। অভিযোগ মিয়াপাড়া প্লে সেন্টারের স্থানীয় একটি দল রয়েছে। পরপর বিভিন্ন দলের সাথে নিজের মাঠের এবং এলাকার দাপট দেখিয়ে মারপিট করে যাচ্ছে গত কয়েকদিন যাবত বলে অভিযোগ। এদিকে বৃহস্পতিবার টুর্নামেন্টের কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয় এবং স্থানীয় দল মিয়াপাড়া প্লে সেন্টার এবং মতিনগর প্লেয়ার সেন্টারের মধ্যে। খেলা সুন্দরভাবে চলছিল শুরু থেকেই। খেলার চলাকালীন সময়ে দুই প্লেয়ারের মধ্যে সাধারণ বিষয় নিয়ে তর্ক বিতর্ক হয় আবার মীমাংসা ও হয়ে যায়। আর এমন সময়ই মিয়াপাড়া এলাকার এক যুবক আচমকা মাঠে নেমে মতিনগর এলাকার প্লেয়ার কে মারধোর শুরু করে। আর মুহুর্তের মধ্যেই সেই মিয়াপাড়া এলাকার যুবকের সাথে সাথে মিয়াপাড়া এলাকার মহিলা-পুরুষ একত্রিত হয়ে মাঠে ধারালো অস্ত্র, বাশ এবং লাঠি নিয়ে এলোপাথাড়ি মারধোর শুরু করে বলে অভিযোগ। একটা সময় ছুটে আসে কমিটির কর্ণধার দুলাল মিয়া। অভিযোগ দুলাল মিয়া এসেও তাদের উপর আক্রমণ শুরু করে। তার মধ্যে আরও অনেকেই মিয়াপাড়া এলাকার প্লেয়ার এবং দর্শক একত্রিত হয়ে মতিনগর এলাকার সর্বমোট ১১ জনকে মারধর করে হাসপাতালে পাঠায়। যার মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা গুরুতর। এরা হলেন শফিকুল ইসলাম,আকাশমিয়া, মাসুদ, শাকিব এবং সাফায়েত এই পাঁচ জনের অবস্থা গুরুতর।বাকিরা হলেন রুহেল মিয়া, দুলাল মিয়া, জুটন ভূঁইয়া,রমজান মিয়া (গোলকিপার) আরিফুল ইসলাম এবং লিটন ভুইয়া। এই গোটা ঘটনায় একটা সময় মাঠের মধ্যে তুমুল উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে মধুপুর থানার পুলিশ তাদেরকে সামলাতে হিমশিম খেয়ে যায়। একটা সময় মতিনগর এলাকার যুবকরা সেখান থেকে কোনরকমে নিজেদের জীবন বাঁচিয়ে মধুপুর থানায় এসে আশ্রয় নেয়।পরবর্তী সময়ে অভিযুক্ত ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয় এবং দোষীদের কঠোর শাস্তি দাবি রাখা হয়।


















