পাহাড়ে আস্থা ফিরছে বামে? এ ডি সি ভিলেজ কমিটি নির্বাচনে বকাফা ব্লকের এক আসনে বিনা লড়াইয়ে বাম মহিলা প্রার্থীর জয়ের পর স্বাভাবিক ভাবেই রাজনৈতিক মহলে উঠছে এই প্রশ্ন। পাহাড়ে বর্তমানে তিপ্রা মথা ও বি জে পি’র দাপাদাপি। বিশেষ করে তিপ্রা মথার। এ ডি সি’র ক্ষমতায়ও রয়েছে মথা। কয়েক মাস আগে শেষ হওয়া এ ডি সি নির্বাচনে ৪ আসনে বি জে পি আর ২৪ আসনে তিপ্রা মথা জয়ী হয়। একটি আসনেও খাতা খুলতে পারেনি একসময় লাল দুর্গ হিসেবে খ্যাত এ ডি সি-তে বামেরা। যদিও প্রার্থী দেওয়া থেকে শুরু করে ভোট গ্রহণ ও ভোট গণনায় বামেদের বাধা-ভয় ভীতি- হুমকির মুখে পড়তে হয়েছে বলে অভিযোগ। এই অবস্থায় কয়েক মাসের ব্যবধানে পাহাড়ে ভিলেজ কমিটি ভোট। একদিকে বি জে পি-তিপ্রা মথা ও আই পি এফ টি জোট। অন্যদিকে বিরোধীরা পৃথক পৃথক ভাবে লড়াইয়ের ময়দানে। বলা চলে বিরোধী হিসেবে কংগ্রেসকে টেক্কা দিয়ে বিশাল সংখ্যক আসনে প্রার্থী দিয়েছে বামেরা। অভিযোগ হুমকি বাধা মাড়িয়েই মনোনয়ন পত্র জমা দিতে পেরেছেন বামেরা। তবে বহু আসনে প্রার্থী দিতেও পারেননি বামেরা। যদিও সেক্ষেত্রে শাসক বি জে পি-র দাবি প্রার্থী খুঁজে পায়নি বামেরা। এদিকে বামেদের অভিযোগ, জোর হুমকির কারণে বামেদের তিন শতাধিক আসনে প্রার্থী প্রত্যাহারও করতে হয়েছে। এ ডি সি ভিলেজ কমিটি নির্বাচন নিয়ে এই যখন চিত্র, তখন অন্য ঘটনা বকাফা ব্লক এলাকায়। সকলকে অবাক করে দিয়ে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছেন বকাফা ব্লকের তাকমাছড়া এডিসি ভিলেজের ৩ নং ওয়ার্ডের ৫ নং তপশিলী জাতি সংরক্ষিত আসনের সিপিএম প্রার্থী। সেই আসনের বামফ্রন্ট সমর্থিত সিপিআই(এম) মহিলা প্রার্থী সন্ধ্যা রানী দাস বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ের মালা পড়লেন। এন ডি এ জোট প্রার্থী-ই দিতে পারেনি। ব্লকের বি ডি ও তথা রিটার্নিং অফিসার টেলিফোনিং সাক্ষাৎকারে জানান, এই ব্লকে ৬ আসনে লড়াই হচ্ছে না। এই ৬ আসনের মধ্যে বিনা লড়াইয়ে একটিতে জয়ী সিপিএম প্রার্থী।
রাজনৈতিক মহলের মতে, বর্তমান রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ভিলেজ কমিটি নির্বাচনে বিনা লড়াইয়ে বাম প্রার্থীর জয় যেন অন্য বার্তা দিচ্ছে। বকাফা ব্লকের এক আসনে জয় কি সেই ইঙ্গিত দিল?




















