রাষ্ট্রপুঞ্জের ৮১তম সাধারণ সভায় ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর সওয়াল করলেন বিশ্বশান্তির পক্ষে। সেই সঙ্গে হুঁশিয়ারি দিলেন পাকিস্তানকে। বললেন, ‘‘সন্ত্রাসবাদের মদতদাতাদের নিজেদের আচরণের পরিবর্তন করতে হবে।’’ একই সঙ্গে তাঁর স্পষ্ট বার্তা, ‘‘আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করবই।’’ শনিবার তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, ইরান-ইজ়রায়েল- হরমুজ় প্রসঙ্গ। একই সঙ্গে তিনি সওয়াল করেন উন্নয়নশীল দেশগুলির ‘ফোর এফ’ সঙ্কট সমাধানের জন্য।
শনিবার ভারতীয় সময় শনিবার রাত ১০টা ৫৪ মিনিট নাগাদ বক্তব্য শুরু করেন জয়শঙ্কর। তিনি বলেন, ‘‘বিশ্ব শন্তির পক্ষে ক্রমাগত হুমকি হয়ে উঠছে সন্ত্রাসবাদ। এর নেপথ্যে কোনও কোনও রাষ্ট্রের মদত থাকতে পারে।’’ তার পরেই জয়শঙ্করের হুঁশিয়ারি, সন্ত্রাসবাদের নেপথ্যে থাকা বিভিন্ন সরকারকে জবাবদিহি করতেই হবে। পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফের সমালোচনা করে ভারতের বিদেশমন্ত্রীর দাবি, যাঁরা সন্ত্রাসবাদে লিপ্ত তাঁরা বক্তৃতার সময়ে তথ্য বিকৃত করেন। ‘সন্ত্রাসবাদ’কে স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে ব্যাখ্যা করে নিজেদের ‘দায়মুক্ত’ করতে চান। তবে কোনও কিছুই ধোপে টিকবে না বলে দাবি করেন জয়শঙ্কর। তিনি বলেন, ‘‘সন্ত্রাস ও সদিচ্ছা একসঙ্গে চলতে পারে না।’’ সন্ত্রাসবাদ দমনে পাকিস্তানের পদক্ষেপের উপরেও প্রশ্ন তোলেন তিনি। ভারতের বিদেশমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি, ‘‘সীমান্ত সন্ত্রাসের জন্য পাকিস্তানকে পরিণাম ভোগ করতেই হবে।’’ প্রসঙ্গত, ভারত ও জম্মু কাশ্মীর ইস্যুতে পাকিস্তানের মন্তব্যের কড়া বিরোধিতা করেন রাষ্ট্রপুঞ্জে নিযুক্ত ভারতের স্থায়ী মিশনের প্রধান সচিব পেটাল গেহলট। ইসলামাবাদকে পাল্টা তিনি নিশানা করেন সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা, গণতন্ত্রকে ক্ষুণ্ণ করা ও সন্ত্রাসবাদ বিষয়ে।
ভারতের বিদেশমন্ত্রী শনিবার বলেন, ‘‘আগত সদস্যেরা বিশ্বশান্তি ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবু ‘সংঘর্ষ’-ই উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তাঁর মতে, শান্তি বজায় না রাখতে পারা শুধুমাত্র নিরাপত্তাকেই ক্ষুণ্ণ করছে না, বিঘ্নিত হচ্ছে উন্নয়নও।’’ যে কোনও যুদ্ধে বিশ্ব জুড়ে প্রভাব পড়ে মন্তব্য করেন জয়শঙ্কর। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘‘যুদ্ধের অবসান হোক।’’
ইরান ও ইজ়রায়েল-আমেরিকার নাম না করে রাষ্ট্রপুঞ্জে জয়শঙ্করের দাবি, উপসাগরীয় অঞ্চলে পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হচ্ছে, যা উদ্বেগের। তিনি বলেন, ‘‘ভারত চায় সংযম ও উত্তেজনার অবসান।’’ ভারতের তরফে অভিযোগ, হরমুজ় প্রণালী দিয়ে যাওয়া জাহাজ ও নাবিকেদের নিশানা করা হয়। এর পরেই জয়শঙ্করের দাবি, অসামরিক নাগরিকেদের সুরক্ষার পাশাপাশি জ্বালানি ও বাণিজ্য ব্যবস্থা অব্যাহত রাখার নিশ্চয়তা। এ দিন তিনি বলেন, ‘‘যুদ্ধের ফলে কোনও ‘দোষ’ না করেও অনেক দেশকে মাসুল দিতে হচ্ছে।’’
রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ সভা থেকে জয়শঙ্কর দাবি করেন, গ্লোবাল সাউথের দেশগুলিতে খাদ্য, জ্বালানি, সার ও অর্থনীতির (‘ফোর এফ’- ফুড, ফুয়েল, ফার্টিলাইজ়ার ও ফিনান্স) সঙ্কট অন্যতম সমস্যা। উন্নয়নশীল দেশগুলির শিল্পায়নের অধিকার ক্ষুণ্ণ হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। সেই সঙ্গে তিনি জানান, এক সময়ে যে প্রযুক্তির অগ্রগতি আশার সঞ্চার করেছিল, তা এখন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
উল্লেখ্য, শনিবার রাশিয়া ও ইরানের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে ব্রিকস্ ও উপসাগরীয় অঞ্চল নিয়ে একাধিক ইস্যুতে আলোচনা করেন জয়শঙ্কর। রাশিয়ার তরফে সওয়াল করা হয় রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে ভারতকে স্থায়ী সদস্য পদ দেওয়ার জন্য।



















