দুর্বৃত্তদের বিষে ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্য চাষিদের বাড়িতে গেলেন তপশিলি সমন্বয়, কৃষক সভার নেতৃত্ব ও রাজ্যের বিরোধী দলনেতা। তারা এ ধরণের ঘটনার নিন্দা জানান। সম্প্রতি তিনটি বিধানসভা এলাকায় তিন মৎস্য চাষির পুকুরে বিষ ঢেলে দেয় দুর্বৃত্তরা। এতে হাজার হাজার মাছ মারা যায়। বাধারঘাট বিধানসভার সূর্যপাড়ার মৎস্য চাষি অলক রায়ের পুকুরে দুষ্কৃতকারীরা বিষ দেয়। এতে প্রচুর মাছ মারা যায়। দুর্বৃত্তদের বিষে উনি আর্থিক ভাবে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হন। শুধু এই একটি পুকুরই নয়, প্রতাপগড় বিধানসভা কেন্দ্রের আড়ালিয়া স্থিত মৎস্য চাষি শুভঙ্কর মজুমদার, যোগেন্দ্রনগর কাটাশেওলা স্থিত মৎস্য চাষি পরমেশ্বর দাসের পুকুরেও বিষ দেওয়া হয়।তাদেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বৃহস্পতিবার ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্য চাষিদের পুকুর গুলি পরিদর্শনে যান বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী, সারা ভারত কৃষকসভার সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক বিজু কৃষ্ণান, সহ- সভাপতি হান্নান মোল্লা, সংগঠনের নবনির্বাচিত ত্রিপুরা রাজ্য কমিটির সম্পাদক রতন দাস, ত্রিপুরা তপশিলী জাতি সমন্বয় সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুধন দাস সহ অন্যরা। পরিদর্শনকালে বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী মন্তব্য করেন, ত্রিপুরা রাজ্যের জোট সরকারের জন বিরোধী কার্যকলাপ, দুর্নীতি, নানান অপকর্মের জন্য জনবিচ্ছিন্ন। এর বিরুদ্ধে জনগণের তরফ থেকে আওয়াজ উঠছে। বামপন্থীরা সেই আওয়াজকে সংহত করে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করছে। এই জায়গায় বামপন্থীদের মুখ বন্ধ করতে না পেরে অর্থনৈতিক ভাবে তাদের ক্ষতিগ্রস্ত করা হচ্ছে।
ত্রিপুরা তপশিলি জাতি সমন্বয় সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুধন দাস অভিযোগ করেন ২০১৮ সালের পর থেকে গোটা রাজ্যে কৃষকদেরও যেমন ক্ষতি করা হচ্ছে তেমনি মৎস্যজীবীদেরও ক্ষতি করা হচ্ছে। সম্প্রতি তিনটি পুকুরে বিষ ঢেলে মৎস্য চাষিদের ১৫ থেকে ১৬ লাখ টাকার ক্ষতি করা হয়েছে। তিনি বলেন আগামী দিনে কৃষকসভা, মৎস্যজীবী ইউনিয়ন, তপশিলি জাতি সমন্বয় সমিতি ঐক্যবদ্ধ ভাবে এর বিরুদ্ধে লড়াই করে এই অত্যাচারের হাত থেকে ত্রিপুরাকে মুক্ত করার জন্য এগিয়ে যাওয়ার বার্তা দেন তিনি।
কৃষকসভার সাধারণ সম্পাদক বিজু কৃষ্ণান এধরণের বর্বরতার নিন্দা জানান। এমন ঘটনার বিরুদ্ধে জনতা রাস্তায় নেমে আসছে। এধরণের ঘটনার বিরুদ্ধে একজোট হয়ে আন্দোলনে নামা জরুরি।
এদিকে এদিন প্রতিনিধি দল সূর্যমনিনগর বিধানসভা এলাকায় আরও এক ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্য চাষির পুকুরও ঘুরে দেখেন। কথা বলেন ক্ষতিগ্রস্ত চাষির সঙ্গে।
















