সময় ও সত্যের কণ্ঠস্বর

  • হোম
  • দেশ
  • ৭৬-এ পা দিলেন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী থেকে দেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়া নরেন্দ্র মোদী
Image

৭৬-এ পা দিলেন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী থেকে দেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়া নরেন্দ্র মোদী

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আজ ৭৬ তম জন্মদিন। একজন চা বিক্রেতা থেকে বিশ্বের সর্বশক্তিমান নেতা হিসেবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উত্থান কোনও কল্পকথা নয়, ঘোর বাস্তব। ১৯৫০ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর গুজরাটের মেহসানা জেলার ভাদনগরে জন্মগ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ৮ বছর বয়সেই রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের সঙ্গে নরেন্দ্র মোদীর প্রথম পরিচয় হয়।এরপর ১৯৭০-এর দশকে তিনি আরএসএস কর্মী হন, যেখান থেকে তাঁর রাজনৈতিক যাত্রার সূচনা। এরপর ১৯৮৭ সালে ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপিতে যোগ দেন মোদী। নরেন্দ্র মোদী ১৯৫০ খ্রিষ্টাব্দের ১৭ই সেপ্টেম্বর বম্বে প্রেসিডেন্সির মহেসানা জেলার বড়নগর নামক স্থানে গুজরাটি হিন্দু মুদি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন । তিনি তার পিতামাতার ছয় সন্তানের মধ্যে তৃতীয় ছিলেন। তার পিতার নাম দামোদারদাস মূলচাঁদ মোদী ও মায়ের নাম হীরাবেন মোদী। বড়নগর রেলস্টেশনে তিনি তার পিতাকে চা বিক্রি করতে সহায়তা করতেন এবং কৈশোরে বাস স্ট্যান্ডের কাছে ভাইয়ের সাথে চা বিক্রি করুতেন পুরো পরিবার একটি একতলা বাড়িতে বসবাস করতেন। তিনি এই শহরেই একজন সাধারণ মানের ছাত্র হিসেবে তার বিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ করেন।

ছোট বেলায় স্বামী বিবেকানন্দের জীবন তাকে বিশেষ ভাবে অনুপ্রাণিত করে। আট বছর বয়সে মোদী রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের স্থানীয় শাখায় তার রাজনৈতিক গুরু লক্ষ্মণরাও ইনামদার নামক এক সাংগঠনিক কর্মীর সংস্পর্শে আসেন। ইনামদার তাকে সঙ্ঘের বালস্বয়ংসেবক হিসেবে দলে নেন।এই সময় তিনি জন সংঘের নেতা বসন্ত গজেন্দ্রগড়কর ও নথালাল জঘদার সংস্পর্শে আসেন।

ঘাঞ্চী সম্প্রদায়ের রীতি অনুসারে মোদীর পিতা মাতা কৈশোর অবস্থায় তার বিবাহ স্থির হয়। তেরো বছর বয়সে যশোদাবেন চিমনলাল নামক এক মেয়ের সঙ্গে তার বিবাহ স্থির হয় এবং আঠারো বছর বয়সে তাদের মধ্য বিবাহ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। খুব কম সময় তারা একসঙ্গে সময় অতিবাহিত করেন কারণ এরপর মোদী পরিব্রাজকের জীবন অনুসরণ করার সিদ্ধান্ত নিলে তারা বিচ্ছিন্ন হন। মোদীর জীবনীকার নীলাঞ্জন মুখোপাধ্যায়ের মতে এই বিবাহ কখনোই বিচ্ছেদ হিসেবে শেষ হয়ে যায়নি। চারটি নির্বাচন প্রচারে মোদী নিজের বিবাহিত জীবন নিয়ে নীরবতা অবলম্বন করলেও ২০১৪ খ্রিষ্টাব্দে অনুষ্ঠিত ষোড়শ সাধারণ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় তিনি যশোদাবেনকে নিজের আইনতঃ বৈধ পত্নী রূপে স্বীকার করে নেন।

২০১৪ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত কিশোর মাকওয়ানা রচিত কমন ম্যান নরেন্দ্র মোদী গ্রন্থ থেকে জানা যায় যে সতেরো বছর বয়সে ঘর ছেড়ে চলে যাওয়ার পর তিনি রাজকোট শহরে অবস্থিত রামকৃষ্ণ মিশন ও তারপর বেলুড় মঠ যাত্রা করেন। এরপর তিনি আলমোড়া শহরে স্বামী বিবেকানন্দ প্রতিষ্ঠিত আশ্রমে যোগ দেন। দুই বছর পরে তিনি বাড়ি ফিরে এসে আমেদাবাদ শহরে নিজের কাকার চায়ের দোকানে যোগ দেন। এই সময় তিনি পুনরায় লক্ষ্মণরাও ইনামদারের সংস্পর্শে আসেন। এরপর তিনি গুজরাত রাজ্য মার্গ বাহন ব্যবহার নিগমের ক্যান্টিনের কর্মচারী হিসেবে যোগ দেন, যত দিন না তিনি ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের একজন পূর্ণসময়ের প্রচারক হিসেবে যোগ দেন।  এই সময় তিনি দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দূরশিক্ষার মাধ্যমে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক এবং গুজরাট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী লাভ করেন।

ভারতীয় জনতা পার্টির নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স (এনডিএ) ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ভূমিধস জয়ী হওয়ার পর, মোদি ২০১৪ সালের ২৬ মে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেন। তিনি ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য থেকে দেশের স্বাধীনতা অর্জনের পর জন্মগ্রহণকারী প্রথম ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে এনডিএ-এর জয়ের পর মোদি দ্বিতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ২০২০ সালের ৬ ডিসেম্বর, তিনি ভারতের চতুর্থ-দীর্ঘকালীন প্রধানমন্ত্রী এবং দীর্ঘতম সময়ের জন্য অ- কংগ্রেস প্রধানমন্ত্রী হন।

Related Posts

Scroll to Top