সময় ও সত্যের কণ্ঠস্বর

Image

বিরাজের হাতে প্রাণ পায় মাটির প্রতিমা!

মাত্র ১৬ বছর বয়স। এই বয়সে অনেকের হাতেই থাকে বইখাতা কিংবা খেলার সরঞ্জাম। কিন্তু এই বয়সেই বিরাজের হাতের জাদুতে প্রাণ পায় মাটি।পেশায় গাড়িচালক বাবার সন্তান হয়েও সাধারণ জীবন পেরিয়ে আজ নিজের প্রতিভায় সে তৈরি করছে দুর্গা ও লক্ষ্মী প্রতিমা। সেই শিল্পের মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে একজন সম্ভাবনাময় শিল্পীর আগামী দিনের স্বপ্ন।

কারও হাতে থাকে বই-খাতা, কারও হাতে থাকে খেলার সরঞ্জাম। আর মাত্র ১৬ বছর বয়সেই বিরাজ দেবের হাতে উঠে এসেছে মাটি, রং আর শিল্পের জাদু। যে বয়সে অনেকেই নিজেদের শখের জগতে ডুবে থাকে, সেই বয়সেই মাটির বুকে আপন মনের কল্পনাকে ফুটিয়ে তুলে প্রতিমা নির্মাণে ব্যস্ত কমলপুর শহর সংলগ্ন ডিয়ার ক্লাবপাড়ার এই কিশোর। সাধারণ পরিবারের এই ছেলের জীবনযাত্রায় হয়তো বিলাসিতার জায়গা খুব বেশি নেই, কিন্তু তার হাতের শিল্পকর্মে রয়েছে অসাধারণ সম্ভাবনার ইঙ্গিত। বিরাজের বাবা পেশায় একজন গাড়িচালক। বাবার পেশার পাশাপাশি নিজের প্রতিভাকে সঙ্গী করে বিরাজ যে পথে এগিয়ে চলেছে, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে। বিরাজের গল্পটা শুধু মাটির মূর্তি তৈরির গল্প নয়, বরং অল্প বয়সে প্রতিভা, পরিশ্রম আর স্বপ্নকে আঁকড়ে ধরে এগিয়ে চলার এক সুন্দর কাহিনি। ছোটোবেলা থেকেই মাটির মূর্তি নির্মাণের প্রতি গভীর আকর্ষণ ছিল বিরাজের। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই আগ্রহই ধীরে ধীরে শিল্পের রূপ নিয়েছে। নিজের হাতের ছোঁয়ায় সাধারণ মাটিকে দেবদেবীর প্রতিমায় রূপ দেওয়ার চেষ্টা করে চলেছে সে। আর এবার দুর্গাপূজার মরশুমে তার সেই শিল্পীসত্তার সামনে এসেছে আরও বড় দায়িত্ব।বিরাজ জানিয়েছে, এবছর দুর্গাপ্রতিমা তৈরির অর্ডার পেয়েছে সে। সেই অর্ডার অনুযায়ী মন দিয়ে তৈরি করছে দেবী দুর্গার প্রতিমা। পাশাপাশি তার হাতেই তৈরি হচ্ছে দেবী লক্ষ্মীরূর্তিও।

আজকের দিনে যেখানে অনেক প্রতিভা যথাযথ সুযোগ ও পরিচিতির অভাবে আড়ালে থেকে যায়, সেখানে বিরাজের মতো কিশোরদের উৎসাহ দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। কারণ প্রতিভার বিকাশের জন্য শুধু দক্ষতাই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন স্বীকৃতি, সহযোগিতা এবং এগিয়ে যাওয়ার সুযোগও। প্রতিটি প্রতিমার গড়ন, অববয়ব আর সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলতে প্রয়োজন ধৈর্য, মনোযোগ ও নিপুণ হাতের কাজ। সেই কাজেই নিজের সময় ও শ্রম উজাড় করে দিচ্ছে এই কিশোর।

Related Posts

Scroll to Top