সময় ও সত্যের কণ্ঠস্বর

  • হোম
  • দেশ
  • ব্রাজ়িলে প্রত্যাবর্তন বামপন্থী লুলার! প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রথমে পিছিয়ে পড়েও হারিয়ে দিলেন ট্রাম্প-ঘনিষ্ঠ প্রার্থীকে
Image

ব্রাজ়িলে প্রত্যাবর্তন বামপন্থী লুলার! প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রথমে পিছিয়ে পড়েও হারিয়ে দিলেন ট্রাম্প-ঘনিষ্ঠ প্রার্থীকে

আশিতে ফের আসিলেন! প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রায় হারা ম্যাচ জিতে চমক দেখালেন ব্রাজ়িলের অশীতিপর প্রেসিডেন্ট লুলা দ্য সিলভা। হারালেন প্রাক্তন প্রতিদ্বন্দ্বীর পুত্র ফ্লাভিও বলসোনারোকে। প্রায় ৯৯ শতাংশ গণনা শেষ হওয়ার পর দেখা যাচ্ছে বামপন্থী লুলা পেয়েছেন ৫১.৭৫ শতাংশ ভোট। আর দক্ষিণপন্থী বলসোনারো পেয়েছেন ৪৮.২৫ শতাংশ ভোট।

শেষ চালে কিস্তিমাত করে চতুর্থবারের জন্য ব্রাজ়িলের প্রেসিডেন্ট হতে চলেছেন লুলা। এর আগে ২০০২, ২০০৬ এবং ২০২২ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন লুলা। চার বছর অন্তর ব্রাজ়িলে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হয়ে থাকে। ২০২২ সালে ফ্লাভিওর বাবা জ়ইর বলসোনারোকে হারিয়েছিলেন লুলা। পরে অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্রের দায়ে বলসোনারোর ২৭ বছরের জেলের সাজা হয়।

বলসোনারোদের সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্পর্ক বরাবরই ভাল। এর আগে প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জ়ইরের বিরুদ্ধে চলা বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে ব্রাজ়িলের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। পরে অবশ্য খানিক সুর নরম করেন তিনি। তার পর চলতি বছরে ব্রাজ়িলের বিরুদ্ধে অবৈধ ভাবে ব্যবসা করার অভিযোগ তুলে ফের শুল্ক আরোপ করে আমেরিকা। অন্য দিকে, ব্রাজ়িলের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলানোর অভিযোগ তুলে একাধিক বার ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে লুলা প্রশাসন। সেই দিক থেকে দেখলে লুলার জয়ে খানিক বিপাকে পড়লেন ট্রাম্পও।

কেবল ৮০ বছর বয়সে চতুর্থবারের জন্য প্রেসিডেন্ট হওয়াই নয়, লুলা আরও একটি ক্ষেত্রে নজির গড়েছেন। দক্ষিণ আমেরিকার বৃহত্তম দেশ ব্রাজ়িলে ১৯৮৫ সালে সামরিক শাসনের অবসান হয়। তার পর এই প্রথম পেলে-রোমারিওর দেশে কোনও প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী প্রথম রাউন্ডে পিছিয়ে পড়েও দ্বিতীয় রাউন্ডে জয় হাসিল করলেন। আগামী ৫ জানুয়ারি থেকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে লুলার চতুর্থ দফার মেয়াদ শুরু হবে।

প্রথম দফার ভোটে কোনও পক্ষই জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ৫০ শতাংশ ভোট পাননি। তবে লুলার তুলনায় এগিয়ে ছিলেন দক্ষিণপন্থী লিবারেল পার্টির প্রার্থী ফ্লাভিও। যেহেতু প্রথম দফায় কোনও প্রার্থীই প্রয়োজনীয় ৫০ শতাংশ বা তার বেশি ভোট পাননি, তাই সে দেশের নিয়ম অনুযায়ী রবিবার ব্রাজ়িলে দ্বিতীয় রাউন্ডের ভোট হয়। দ্বিতীয় দফার ভোটে অংশগ্রহণ করে প্রথম দফায় সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া দুই প্রার্থী লুলা এবং ফ্লাভিও। ভোটের ফল বলছে, ৫০ শতাংশেরও বেশি ভোট পেয়ে লুলা বুঝিয়ে দিয়েছেন জনসমর্থন তাঁর দিকেই রয়েছে। সে ক্ষেত্রে ব্রাজ়িলে নতুন করে আর ভোট করানোর প্রয়োজন নেই।

গণনা শুরু হওয়ার পর নাটকীয় পরিস্থিতিও তৈরি হয়। গণপরিবহণের অভাবে ভোটারেরা ভোটকেন্দ্রে যেতে পারছেন না, এমন অভিযোগ তুলে ভোটদানের সময় বৃদ্ধির আর্জি জানায় লুলা শিবির। দক্ষিণ ব্রাজ়িলে ভারী বর্ষণের কথা জানিয়ে একই আর্জি জানায় জুনিয়র বলসোনারো শিবিরও। ব্রাজ়িলের সুপ্রিম কোর্ট দু’পক্ষের আর্জি মেনে ভোটদানের সময় দু’ঘণ্টা বৃদ্ধি করেন। গণনার কাজ স্থগিত করে ফের ভোটদান প্রক্রিয়া শুরু হয়। ব্রাজ়িলের স্থানীয় সময় অনুযায়ী, বিকেল ৫টায় ভোট শেষ হওয়ার কথা ছিল। তা সন্ধ্যা ৭টায় শেষ হয়।

ফলাফলকে ঘিরে একটি অন্য বিতর্ক উস্কে দিয়েছেন ফ্লাভিও। সুপ্রিম কোর্টের যে বিচারপতি লুলা শিবিরের আর্জি মেনে ভোটদানের সময় বৃদ্ধি করেন, সেই বিচারপতি ক্রিশ্চিয়ানো জ়ানিন এক সময় লুলার ব্যক্তিগত আইনজীবী ছিলেন। স্বাভাবিক ভাবেই এই বিষয়টিকে সামনে রেখে পক্ষপাতের অভিযোগ তুলেছে ফ্লাভিও শিবির। তাদের বক্তব্য, ভোটদানের সময় বৃদ্ধি করার পরেই কয়েকটি ভোটদান কেন্দ্রে উত্তেজনা তৈরি হয়। ভোটের এই ফলাফলকে মানতে অস্বীকার করেছেন বলসোনারো-পুত্র।

প্রথম রাউন্ডে পিছিয়ে পড়ার পরেই প্রচারকৌশলে বদল এনেছিলেন লুলা। মূলত ছাত্র-যুবদের কাছে পৌঁছোনোর চেষ্টা করেন অশীতিপর এই বামপন্থী রাজনীতিক। যে লুলা কোনও দিন স্মার্টফোনই ব্যবহার করেননি, সেই তাঁকে তরুণ-তরুণীদের ভিড়ে মিশে গিয়ে সেলফি তুলতে দেখা যায়। লুলা শিবির মনে করিয়ে দেয় যে, ফ্লাভিওর বাবা বলসোনারো কোভিড মোকাবিলায় ব্যর্থ হয়েছিলেন, আমাজ়নের জঙ্গল ধ্বংস করেছিলেন। অন্য দিকে, ব্রাজ়িলের ক্রমবর্ধমান অপরাধের ঘটনা কমানোর ডাক দিয়েছিলেন ফ্লাভিও। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম কমানোর প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন তিনি। বিশেষজ্ঞেরা মনে করছেন, দোদুল্যমান ভোটারেরা অনিয়শ্চতার পথ ছেড়ে শেষপর্যন্ত অভিজ্ঞ লুলাকেই বেছে নিয়েছেন।

Related Posts

Scroll to Top