শরতের ভোরের হিমেল হাওয়া আর মহালয়ার সুরের জাদুতে মেতে উঠেছে আগরতলা। প্রযুক্তির ছোঁয়ায় রেডিও থেকে ইয়ারফোন এলেও, শেকড়ের টানে বাঙালির এই নস্টালজিয়া আজও চিরন্তন। চলুন, এক নজরে দেখে নেওয়া যাক মহালয়ার ভোরে কেমন সেজে উঠেছে রাজধানী আগরতলা।
আশ্বিনের শারদ প্রাতে পেঁজা তুলোর মতো মেঘ আর ভোরের হিমেল বাতাস জানান দিয়েছে— মা আসছেন। পিতৃপক্ষের অবসান ঘটিয়ে দেবীপক্ষের এই পুণ্যলগ্নে মেতে ওঠে আগরতলাবাসী। রাজধানী আগরতলার অলিগলি থেকে শুরু করে উজ্জ্বয়ন্ত রাজপ্রাসাদ চত্বর, এম বি রোড কিংবা রবীন্দ্র কাননের চেনা রাস্তাগুলোয় মহালয়ার ভোরে প্রাতঃভ্রমণকারীদের উপচে পড়া ভিড় প্রমাণ করে দেয়, প্রযুক্তির বদল ঘটলেও এই নস্টালজিয়া চিরন্তন। ভোরের অন্ধকার পুরোপুরি কাটার আগেই যখন চারপাশ শান্ত, ঠিক তখনই শহরের বিভিন্ন প্রান্তের রাস্তাগুলো মুখরিত হয়ে ওঠে প্রাতঃভ্রমণকারীদের পদচারণায়। একদল মানুষ যখন হাওড়া নদীর তীরে বা স্থানীয় জলাশয়ে পিতৃপুরুষের উদ্দেশ্যে তর্পণে ব্যস্ত, ঠিক তখনই অন্য একদল বেরিয়ে পড়েন শরতের প্রথম ভোরের হাওয়া গায়ে মাখতে।
নব্বইয়ের দশকের যৌথ পরিবারে একসঙ্গে বসে রেডিও শোনার অভ্যাসে কালান্তর ঘটেছে। আজকাল পুরোনো ভাঙা রেডিওর জায়গা অনেকটাই দখল করেছে স্মার্টফোন, ইউটিউব কিংবা ওটিটি প্ল্যাটফর্ম। তবে মাধ্যম বদলালেও সুরের দ্যোতনা আজও এক। আজকের তরুণ প্রজন্ম কানে ইয়ারফোন গুঁজে প্রাতঃভ্রমণ করছে, আর প্রবীণদের অনেকের হাতে আজও শোভা পায় সেই ঐতিহ্যবাহী পকেট রেডিও। সবার কানেই অবশ্য বাজছে সেই অমর আহ্বান— বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের উদাত্ত কণ্ঠে “আশ্বিনের শারদ প্রাতে
রূপ পাল্টালেও আগরতলার বুকে বাঙালির এই ঐতিহ্য প্রমাণ করে যে কিছু আবেগ কখনো পুরনো হয় না। মহালয়ার ভোরের আলো, হালকা হিমেল হাওয়া আর প্রাতঃভ্রমণের এই চেনা অভ্যাস কেবল একটি সকালের হাঁটা নয়— এটি দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিক আগমন বার্তা এবং শিকড়ে ফেরার এক চিরন্তন সেতু।
















